ঢাকা সোমবার ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
কুষ্টিয়ার চার আসনে জামায়াত ইসলামের প্রার্থীদের শক্ত প্রচারণা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনেই প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কুষ্টিয়া-১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসনে ঘোষিত চার প্রার্থী এখন স্থানীয় মসজিদ–মাদ্রাসা, বাজার ও গ্রামীণ মহল্লা ঘুরে ভোট চান, যার ফলে পুরো জেলাজুড়ে ইসলামপন্থী ভোটব্যাংক নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, এ চারজনের প্রার্থী হওয়ায় কুষ্টিয়ায় বিএনপির সাথেই জামায়াতের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র তৈরি হয়েছে।
দৌলতপুরের কুষ্টিয়া-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী গ্রাসরুট আলেম ও সংগঠক–ভিত্তিক নেটওয়ার্ক নিয়ে মাঠে আছেন; চরাঞ্চল ও গ্রামীণ ভোটারদের কাছে তিনি ধর্মীয় ও নৈতিক শাসনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।
মিরপুর–ভেড়ামারা কেন্দ্রিক কুষ্টিয়া-২ আসনে প্রার্থী হিসেবে উঠে আসা নেতৃত্বটি দীর্ঘদিনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নায়েবে আমির হওয়ায় সংগঠনের ভেতরে তাঁর একটি স্থায়ী কাঠামো আছে; শিল্পাঞ্চল–শ্রমিক–ব্যবসায়ী ভোটই তাঁর লক্ষ্য।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াত আলোচনায় এসেছে আলোচিত বক্তা–ধর্মীয় বক্তৃতামঞ্চের তারকা প্রকৃতির প্রার্থীকে সামনে এনে; শহর ও আশপাশের এলাকায় তাঁর অনুসারী গোষ্ঠী এবং ধর্মীয় মাহফিল–নেটওয়ার্ককে ভোটে রূপান্তর করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে কুষ্টিয়া-৪–এ প্রার্থী একজন পুরনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা, যিনি ইউনিয়নভিত্তিক রুকন–কর্মী নেটওয়ার্কের ওপর ভর করে কৃষক–শ্রমিক–প্রবাসী পরিবারের সমর্থন টানতে চান।
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের মূল শক্তি হচ্ছে শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন ও মসজিদ–মাদ্রাসা–কেন্দ্রিক সামাজিক প্রভাব; তবে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে তরুণ ও নগর মধ্যবিত্তের একাংশের মধ্যে এখনও গ্রহণযোগ্যতার সংকট রয়েছে। ফলে কুষ্টিয়ার চার আসনেই জামায়াতকে একদিকে বিএনপির সাথে অ্যান্টি–স্ট্যাটাসকো ভোট ভাগাভাগির চাপ, অন্যদিকে নিজস্ব ব্র্যান্ড–ইমেজের সীমাবদ্ধতা—দুই সঙ্কটই সামলে চলতে হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :