ঢাকা সোমবার ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকা সোমবার ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কুষ্টিয়ার চার আসনে জামায়াত ইসলামের প্রার্থীদের শক্ত প্রচারণা। 

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়ার চার আসনে জামায়াত ইসলামের প্রার্থীদের শক্ত প্রচারণা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনেই প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কুষ্টিয়া-১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসনে ঘোষিত চার প্রার্থী এখন স্থানীয় মসজিদ–মাদ্রাসা, বাজার ও গ্রামীণ মহল্লা ঘুরে ভোট চান, যার ফলে পুরো জেলাজুড়ে ইসলামপন্থী ভোটব্যাংক নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, এ চারজনের প্রার্থী হওয়ায় কুষ্টিয়ায় বিএনপির সাথেই জামায়াতের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র তৈরি হয়েছে।

দৌলতপুরের কুষ্টিয়া-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী গ্রাসরুট আলেম ও সংগঠক–ভিত্তিক নেটওয়ার্ক নিয়ে মাঠে আছেন; চরাঞ্চল ও গ্রামীণ ভোটারদের কাছে তিনি ধর্মীয় ও নৈতিক শাসনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

মিরপুর–ভেড়ামারা কেন্দ্রিক কুষ্টিয়া-২ আসনে প্রার্থী হিসেবে উঠে আসা নেতৃত্বটি দীর্ঘদিনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নায়েবে আমির হওয়ায় সংগঠনের ভেতরে তাঁর একটি স্থায়ী কাঠামো আছে; শিল্পাঞ্চল–শ্রমিক–ব্যবসায়ী ভোটই তাঁর লক্ষ্য।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াত আলোচনায় এসেছে আলোচিত বক্তা–ধর্মীয় বক্তৃতামঞ্চের তারকা প্রকৃতির প্রার্থীকে সামনে এনে; শহর ও আশপাশের এলাকায় তাঁর অনুসারী গোষ্ঠী এবং ধর্মীয় মাহফিল–নেটওয়ার্ককে ভোটে রূপান্তর করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে কুষ্টিয়া-৪–এ প্রার্থী একজন পুরনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা, যিনি ইউনিয়নভিত্তিক রুকন–কর্মী নেটওয়ার্কের ওপর ভর করে কৃষক–শ্রমিক–প্রবাসী পরিবারের সমর্থন টানতে চান।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের মূল শক্তি হচ্ছে শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন ও মসজিদ–মাদ্রাসা–কেন্দ্রিক সামাজিক প্রভাব; তবে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে তরুণ ও নগর মধ্যবিত্তের একাংশের মধ্যে এখনও গ্রহণযোগ্যতার সংকট রয়েছে। ফলে কুষ্টিয়ার চার আসনেই জামায়াতকে একদিকে বিএনপির সাথে অ্যান্টি–স্ট্যাটাসকো ভোট ভাগাভাগির চাপ, অন্যদিকে নিজস্ব ব্র্যান্ড–ইমেজের সীমাবদ্ধতা—দুই সঙ্কটই সামলে চলতে হচ্ছে।