ঢাকা সোমবার ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
থাইল্যান্ডের নাগরিক শিশুকে অপ/হরণ করে কুষ্টিয়ায় আটকে রেখে বিদেশে পাচারের অভি/যোগ!
থাইল্যান্ডের নাগরিক এক কন্যাশিশুকে ফুকেট থেকে অপ/হরণ করে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বামনগাড়ি গ্রামে আটকে রাখা এবং ভুয়া জন্মসনদে তাকে বাংলাদেশি দেখানোর অভি’যোগ উঠেছে প্রবাসী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, শিশুটিকে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এ ইন্দোনেশিয়ায় পাচারেরও পরিকল্পনা চলছে।
কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বামনগাড়ি গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৩/৪৪), পিতা মৃত তাহাজ উদ্দিন (সাবেক মেম্বর), দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাসের পর থাইল্যান্ডের ফুকেট শহরে ব্যবসা শুরু করেন। সেখানে তিনি থাই নাগরিক (Butsarin Petsuwan) বুতসারিন পেটসুয়ান (রোজ)–কে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ২০১৬ সালে জন্ম নেয় কন্যা (Jumaira Petsuwan Palmy) জুমাইরা পেটসুয়ান পালমি। থাই নথিতে সে জন্মগতভাবে থাই নাগরিক এবং মায়ের পরিচয়ে নিবন্ধিত।
স্থানীয় ও পারিবারিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায় লোকসান ও পারিবারিক বিরোধের পর ২০২০ সালে কোভিড–মধ্যবর্তী সময়ে আজাদ ফুকেট থেকে গোপন কৌশলে শিশুটিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। ২০২১ সালে সে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড–১৪–এর মাধ্যমে শিশুটির জন্মসনদ সংগ্রহ তৈরী করে, যেখানে জন্মতারিখ ৩০ অক্টোবর ২০১৬ রাখা হলেও জন্মস্থান দেখানো হয়েছে “কুষ্টিয়া” এবং মায়ের নাগরিকত্ব “বাংলাদেশি”। অথচ শিশুর নাম ও মায়ের নাম স্পষ্টভাবে থাই; স্থানীয় হাসপাতালগুলোতেও সংশ্লিষ্ট তারিখে ঐ নামে কোনো নারী ভর্তি হয়ে সন্তান প্রসবের রেকর্ড নেই বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ফলে জন্মসনদটির তথ্যকে তারা পুরোপুরি ভুয়া বলে দাবি উঠেছে।
বর্তমানে শিশুটি কুষ্টিয়ার বামনগাড়ি গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে অপরাধের সাথে জড়িত থাকায় সেখানে ফিরতে না পেরে আজাদ বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় নতুন আস্তানা তৈরী করে যাতায়াত করছে এবং আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এ শিশুটিকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার গোপন পরিকল্পনা করছেন, যা সম্ভাব্য মানবপাচা’রের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শিশুটি মাইনর হওয়ায় সে নিজে কোনো অভিযোগ করতে পারছে না; থাই নাগরিক মা নিরাপত্তাজনিত কারণে এখনো বাংলাদেশে আসতে পারছেন না।তার বড় ভাই সাইফুউদ্দিন মুকুল সাইফুল মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়াই এলাকার আমবাড়ীয়া গ্রামের সলেমানের বিদেশী স্ত্রীকে বাংলাদেশের নাগরিক বানিয়ে সনদ দিয়েছেন ।উক্ত চেয়ারম্যান এছাড়াও কম বয়সী স্কুলের ছাত্রদের বয়স বাড়িয়ে বিদেশে আদম ব্যবসায়ী দালালদের মাধ্যমে লেবার ভিসায় পাঠিয়ে থাকে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো বিদেশি নাগরিক শিশুর প্রকৃত জন্মস্থান গোপন রেখে বাংলাদেশে জন্ম দেখিয়ে জন্মসনদ বানানো স্পষ্ট জালিয়াতি এবং মিথ্যা ঘোষণা, যা দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে অন্য অভিভাবকের সম্মতি ও আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ থেকে শিশু এনে আটকে রাখা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শিশু অপ’হরণের মধ্যেই পড়ে। তারা মনে করেন, এ ধরনের ভুয়া জন্মসনদ শুধু একজন শিশুর পরিচয়ই নষ্ট করে না, বরং ভবিষ্যতে মানবপাচা’রসহ আরও গুরুতর অপরাধ ঢাকতেও ব্যবহৃত হতে পারে।
এ ঘটনায় থাই নাগরিক শিশুর নিরাপত্তা ও আইনগত অধিকারের প্রশ্নে ঢাকাস্থ থাই দূতাবাসের তাৎক্ষণিক নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিশু অপহ’রণ ও মানবপা’চারের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে কুষ্টিয়ায় অবস্থানরত শিশুটিকে শনাক্ত, উদ্ধার এবং ভুয়া জন্মসনদ জালিয়াতির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :