মিরপুরে টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে পরিচয়, ঢাকার হেমায়েতপুরে ‘বিয়ে’ করে বসবাস করা চার কিশোরী উদ্ধার।
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার মিরপুরে টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে পরিচয় এবং পরবর্তীতে সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া চার কিশোরীকে ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করেছে মিরপুর থানা পুলিশ। নিখোঁজের ছয় দিন পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী গত ৫ অক্টোবর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হলে মিরপুর থানা পুলিশ তাদের সন্ধানে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার আরেক কিশোরীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একইভাবে মিরপুরের আরও দুই কিশোরীর মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়।
পরবর্তীতে চার কিশোরী একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ অক্টোবর মিরপুরের তিন কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং নারায়ণগঞ্জের কিশোরীর সঙ্গে মিলিত হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে তাদের মধ্যে দুজন পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে ‘বিয়ে’ করার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস শুরু করে। অপর দুই কিশোরীও একই বাসায় অবস্থান করছিল।
ঘটনার তদন্ত ও অবস্থান শনাক্তের বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাকিলাদহ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ইউসুফ আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেন।
পরে গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চার কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া চারজনের সবার বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, “মিরপুর থেকে নিখোঁজ কিশোরীদের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের এক কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এবং একসঙ্গে থাকার উদ্দেশ্যেই তারা বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। উদ্ধার করার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
