প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার ৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

দুই পুলিশ সন্তানকে ঘীরে মিথ্যাচার, পারিবারিক বিরোধ, তালাক, অর্থ আত্মসাৎ ও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন।

২ পুলিশ ছেলে কে ঘীরে মিথ্যাচার, পারিবারিক বিরোধ, তালাক, অর্থ আত্মসাৎ ও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন।

(আব্দুর রহমান,মিরপুর প্রতিনিধি )

শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আজমতপুর এলাকায় মিথ্যাচার, পারিবারিক বিরোধ, তালাক, অর্থ আত্মসাৎ ও নির্যাতনের অভিযোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাসুমা খাতুন। মাসুমা খাতুন উক্ত দুই পুলিশ কনস্টেবলের মাতা।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, প্রায় নয় বছর আগে দুবাই প্রবাসী মাহামুদুল হক তারেকের সঙ্গে রিয়া নামের এক নারীর পরিচয় হয়। পরে পারিবারিকভাবে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর তারিখে ৬০ হাজার টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময় পারিবারিক কলহ, আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকলে স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে তালাক সম্পন্ন হয় বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিদেশে নেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণ, জমি বন্ধক ও ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের অর্থও ছিল বলে দাবি করেন তারা। পরবর্তীতে বিদেশে অবস্থানকালে স্বামীর পাঠানো অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন কৌশলে সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ারও অভিযোগ তোলা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তালাকের পরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি, মামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় পরিবারটি চরম মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে এক নারী তার পূর্ব পরিচিত ব্যক্তি ও স্থানীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে পরিবারটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার, ভয়ভীতি ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

পরিবারটির দাবি, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তাদের ছেলে তার স্ত্রীকে তালাক দেন এবং ২ সেপ্টেম্বর মাল্টায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে তালাকের নোটিশ পৌঁছানোর পর ওই নারী তাদের বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি, গালিগালাজ ও অশান্তি সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার সামাজিকভাবে চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিবারটির আরও অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা চলছে। তাদের দুই ছেলে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করেন উল্লেখ করে বলা হয়, চাকরিজীবী হওয়ায় তারা সবসময় দায়িত্ব পালন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এবং কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধে জড়াতে চান না।

লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, ২০ লাখ টাকার একটি কথিত কাবিননামা দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কাজী ইতোমধ্যে আদালতে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তাদের মাধ্যমে এ ধরনের কোনো কাবিন সম্পন্ন হয়নি। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তাদের কাছে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া গত ১৬ এপ্রিল তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও তুলে ধরা হয়। পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারটি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সম্পাদক /প্রকাশক: আব্দুল্লাহ আল মামুন। কুষ্টিয়া আমাদের অহংকার,, মিরপুর উপজেলা , কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ। কপিরাইট © মিরপুর টিভি কুষ্টিয়া সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত। নিউজ পোর্টালের জন্য যোগাযোগ ইমেইল :Mirpurtvkushtia@gmail.com.

প্রিন্ট করুন