প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

পেট ভরার জন্য নয়, মানুষের মুক্তির জন্য রাজনীতি করি: জামায়াত আমির

পেট ভরার জন্য নয়, মানুষের মুক্তির জন্য রাজনীতি করি: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সমস্ত মানুষের মুক্তির জন্য চিন্তা করি। আমরা খাবারের জন্য চিন্তা করি না এবং দলীয় কর্মীদের পেট ভরার জন্য রাজনীতি করি না। বরং এ দেশের অভাব, দুঃখী মানুষের মুখে একটু খাবার তুলে দিতে পারি এবং গায়ে একটু কাপড় দিতে পারি। আমাদের ভিশন এই মজলুম জাতিকে একটুখানি মুক্তির স্বাদ দেওয়া। এটাই হবে আমাদের সংগ্রাম, ইনশাআল্লাহ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিুর রহমান বলেন, আমাদের ভাই-বোনদেরকে স্বস্তিতে এক জায়গায় স্থির থাকতে দেওয়া হয়নি। আমরা দল হিসেবে কতটা মজলুম ছিলাম। এই অঞ্চলে আমাদের বোনদেরকে দফায় দফায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে অপমান করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে

তিনি বলেন, আজকে মায়েরা ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, মানবতার পক্ষে আল্লাহর দীনের আওয়াজ তুলতে ঘরে ঘরে যান। কিছু লোক এটা সহ্য করতে পারে না। তাদের বিরক্ত করে, অপমানজনক আচরণ করে, কষ্ট দেয়— এমনকি দিশেহারা হয়ে দুয়েক জায়গায় তাদের গায়েও হাত দিয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে কোনো কিছুর বিনিময় আমরা মায়েদের সম্মান রক্ষা করব, হুঁশিয়ারি দেন ডা. শফিকুর রহমান।

আমিরে জামায়াত বলেন, খনন না করায় পদ্মা-গড়াই নদী নয়, যেন এক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। নদী খননের জন্য প্রতি বছর বাজেট থাকে। সমস্ত টাকা পেটে চলে যায়। নদী আর খনন করা হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কমবেশি যারাই ক্ষমতায় গিয়েছে এই একই কাজ তারা করেছে। এ দেশ সবার এবং সবাই মিলে রক্ষা করতে হবে।

চব্বিশের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমরা কারো ওপর কোন প্রতিশোধ নেইনি। আমরা বলেছিলাম অন্যায়ভাবে কাউকে মামলার আসামি করা হবে না। আমরা অন্যায়ভাবে কাউকে একটা মামলারও আসামি করিনি। বাংলাদেশে হাজার হাজার মামলা আমরা দায়ের করি নাই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পরে মামলা বাণিজ্য শুরু হয়ে গেল। জাগায় জাগায় দখলদারি, অনেক ভাইয়েরা নেমে পড়লেন চাঁদাবাজি করতে। আমরা বলতে চাই, আপনাদের সংসারে অভাব-অনটনের কারণে যদি করে থাকেন— তাহলে আপনারা এখান থেকে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন ওটাই আমরা ভাগাভাগি করে খেতে রাজি আছি। তবুও চাঁদাবাজি করবেন না।

মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, এই বাংলাদেশে প্রত্যেকটি পুরুষ এবং নারীদেরকে মর্যাদার কাজ তুলে দিব, বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের হাতে। তাদের এই যৌবনের শক্তি দিয়ে তারা যেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

দেশের সংকট দূর করতে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমরা তিনটা জায়গায় কাজ করব— যোগাযোগ উন্নত করা, দ্বিতীয় সিন্ডিকেট ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া আর চাঁদাবাজিতে যারা লিপ্ত- তাদের ভাল কাজ দিয়ে বুকে টেনে নেওয়া। এই তিনটি কাজ যদি আমরা সফলভাবে আল্লাহ তায়ালার সাহায্যে করতে পারি, তাহলে আমরা বিশ্বাস করি এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন দেখবে।

সম্পাদক /প্রকাশক: আব্দুল্লাহ আল মামুন। কুষ্টিয়া আমাদের অহংকার,, মিরপুর উপজেলা , কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ। কপিরাইট © মিরপুর টিভি কুষ্টিয়া সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত। নিউজ পোর্টালের জন্য যোগাযোগ ইমেইল :Mirpurtvkushtia@gmail.com.

প্রিন্ট করুন