কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ কাজিপুর বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।
আজ ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর উদ্যোগে কাজিপুর বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকা সংলগ্ন কাচারীপাড়া ফুটবল মাঠে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভাটি বিকেল ১৬:২৫ ঘটিকা হতে ১৭:০০ ঘটিকা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথিঃ উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সকলের সাথে মতবিনিময় করেন কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, পিবিজিএম, বিজিওএম, পিএসসি, সেক্টর কমান্ডার মহোদয়, সেক্টর সদর দপ্তর, কুষ্টিয়া। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল রাশেদ কামাল রনি, এসইউপি, পিএসসি, জি এবং ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাষ্টার ও সহকারী পরিচালক মোঃ জাকিরুল ইসলাম।
জনসাধারণের উপস্থিতিঃ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ৫০০-৫৫০ জন স্থানীয় জনসাধারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সভায় সেক্টর কমান্ডার মহোদয় বলেন, বর্তমানে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে এসআইআর (SIR: Special Intensive Revision) কার্যক্রম চলমান থাকায় সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক ‘পুশ-ইন’ (অবৈধ অনুপ্রবেশ) করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে, বিএসএফ যাতে সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই পুশ-ইন করতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি আনসার-ভিডিপিসহ স্থানীয় জনগণের ঐকান্তিক সতর্কতা ও সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি পুশ-ইন সম্পর্কে সজাগ থাকা, বিএসএফ এর গেইট পাহারা দেওয়া, সীমান্তের ওপারের আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে বিজিবি’কে জানানো এবং পুশ-ইন মোকাবেলায় সকলকে বিজিবি’র সাথে একযোগে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহবান জানান।
এছাড়াও, তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, সীমান্ত আইন মেনে চলা এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি’কে অবহিত করা প্রত্যেক দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য। তিনি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের আইনি জটিলতা, সামাজিক ক্ষতি এবং মাদক ও চোরাচালানের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেন। মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালান কিভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে-তা তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। এসব অপরাধ থেকে দূরে থাকতে এবং অন্যদের সচেতন করতে তিনি স্থানীয়দের প্রতি নিম্নলিখিত আহ্বান জানানঃ
ক। শূন্য রেখা অতিক্রম না করা এবং সন্ধ্যার পর সেখানে গমন বা অবস্থান না করা।
খ। সকল প্রকার চোরাকারবারীদের (মাদক, স্বর্ণ, গরু, নারী ও শিশু পাচারকারী ইত্যাদি) সামাজিকভাবে প্রতিহত করা।
গ। মাদককে সামাজিকভাবে বয়কট করা।
ঘ। চোরাকারবারী কিংবা মানব পাচারকারীদের সম্পর্কে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা।
ঙ। সীমান্ত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অধিকতর সচেতন হওয়া।
চ। শূন্য রেখা বরাবর গবাদি পশু না চরানো, সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে ঘাস কাটতে না যাওয়া, ভারতীয় জমি লিজ না নেওয়া কিংবা চাষ না করা এবং অহেতুক সীমান্ত এলাকায় গমন পরিহার করা।
পরিশেষে তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক সভা ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি ও সাধারণ জনগণের পারস্পরিক সমন্বয় অপরিহার্য। স্থানীয় জনগণ বিজিব’র এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং সীমান্ত অপরাধসহ পুশ-ইন রোধে সকলে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
